টেস্ট ক্রিকেটের বয়স প্রায় দেড়শ বছর। এই সুদীর্ঘ সময়ে বহু খেলোয়াড় নিজের প্রথম ম্যাচেই ম্যান অব দ্যা ম্যাচ হয়েছেন। গত শতাব্দির সত্তরের দশকের শুরু হওয়া ওয়ানডে ক্রিকেটেও এই অর্জন আছে বহু ক্রিকেটারের। কিন্তু দুই ধরনের ক্রিকেটেই প্রথম ম্যাচে সেরা হওয়ার নজির ছিলো না। না থাকা সেই নজির গড়লেন বাংলাদেশের পেস বোলিং বিস্ময় মুস্তাফিজুর রহমান। ক্রিকেট ইতিহাসের নতুন এক অধ্যায়ই রচনা করে দিলেন এই তরুণ।
চলতি বছর পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয় মুস্তাফিজের। নিজের বোলিং ভাণ্ডারে থাকা অস্ত্রগুলোর সামান্য প্রদর্শনীই দেখাতে পেরেছিলেন তিনি। চার ওভারের মধ্যেই বোঝা গিয়েছিলো, লম্বা রেসের ঘোড়া সাতক্ষীরার এই তরুণ। প্রথম শিকার করেছিলেন শহিদ আফ্রিদিকে।
এরপর ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক হয় মুস্তাফিজের। প্রথম দুই ম্যাচে ১১ উইকেট নিয়ে গড়েন বিশ্ব রেকর্ড। তার সামনে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পরে বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটিং লাইন। ওয়ানডেতে নিজের প্রথম শিকার বানান রোহিত শর্মাকে। রোহিতই একমাত্র ক্রিকেটার, যিনি দুইবার ওয়ানডেতে ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন।


মুস্তাফিজের চমক অব্যাহত থাকে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে সিরিজেও। ওয়ানডের পর টেস্টে এসে সাদা জার্সি গায়ে উঠে তার। প্রথম আউট করেন হাশিম আমলাকে। তিন ফরম্যাটের তিন বিশ্বসেরাকে দিয়েই ক্যারিয়ার শুরু করেন মুস্তাফিজ। উইকেট পাওয়ার পাশাপাশি নিজের বিষাক্ত ডেলিভারি অফকাটারকেও আলোচনায় নিয়ে আসেন তিনি। আগের কোনো কীর্তিই মুস্তাফিজই প্রথম গড়েননি। সুদীর্ঘ ক্রিকেট ইতিহাসে কোনো না ঘটনা আগেও ছিলো।
মুস্তাফিজ নিজেকে ছাড়িয়ে গেলেন ক্রিকেটের জনপ্রিয়তম দুই ফরম্যাটের প্রথম ম্যাচেই সেরা খেলোয়াড় হয়ে। মুস্তাফিজের আলো যে বহুদিন বাংলাদেশের ক্রিকেটের সাথে বিশ্ব ক্রিকেটকেও আলোকিত করে যাবে, এই কথাটা এখন বলাই যায়। 
বাংলাদেশের আরো একজন ক্রিকেটার আছেন যিনি অভিষেকে দুই ফরম্যাটে ম্যাচসেরা হন। তবে তা টেস্ট ও ওয়ানডে ছিলো না। ছিলো টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি। ওই ক্রিকেটারের নাম ইলিয়াস সানি। বাঁহাতি স্পিনার সানি আপাতত জাতীয় দলের বাইরে আছেন। 

0 comments:

Post a Comment

Video of Day




Twitter Follow

Translate